সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি,সোনারপুর II, সম্পাদকীয় প্রতিবেদন ২০২৫

নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি,সোনারপুর II, সম্পাদকীয় প্রতিবেদন ২০২৫


নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি,সোনারপুর II, সম্পাদকীয় প্রতিবেদন ২০২৫

নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি

(এবিটিএ)
সোনারপুর - ২ আঞ্চলিক কমিটি
দক্ষিণ ২৪ পরগনা

সম্পাদকীয় প্রতিবেদন ও আয়-ব্যয়ের হিসাব

মানস কোলে নগর
মৌলিনাথ চৌধুরী মঞ্চ

স্থান : তেঁতুলবেড়িয়া অনুকূলচন্দ্র হাই স্কুল

তারিখ : ১৫ই নভেম্বর ২০২৫ শনিবার

আমাদের ওয়েব পোর্টাল :

অনুষ্ঠানসূচী

২ : ১৫ মিনিট : সমিতির পতাকা উত্তোলন ও শহীদ বেদীতে মাল্যদান।
২ : ২০ মিনিট : সভাপতি মন্ডলী, স্টিয়ারিং কমিটি ও মিনিটস কমিটি গঠন।
২ : ২৫ মিনিট : শোক প্রস্তাব বেশ ও নীরবতা পালন।
২ : ৩০ মিনিট : উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন।
২ : ৩৫ মিনিট : উদ্বোধন।
২ : ৪৫ মিনিট : সম্পাদকীয় প্রতিবেদন ও হিসাব পেশ।
৩ : ১০ মিনিট : নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা।
৩ : ৩০ মিনিট : খসড়া প্রতিবেদনের উপর আলোচনা।
৪ : ২০ মিনিট : প্রতিবেদন, প্রস্তাব ও হিসাব অনুমোদন।
৪ : ৪৫ মিনিট : ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সভাপতি মন্ডলীর সমাপ্তি ভাষণ।

শোক প্রস্তাব :

নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি, সোনারপুর - ২ আঞ্চলিক শাখার একাদশতম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছে আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে মানব মুক্তি আন্দোলন, বিশ্বায়নবিরোধী আন্দোলন, শ্রমজীবী মানুষের জীবন জীবিকার অধিকার, ঐক্য ও সম্প্রীতি রক্ষার আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, গণতন্ত্র ও পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলন সহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া সংগ্রামী সাথিদের।

সমিতির দশম সম্মেলন পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমরা হারিয়েছি ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নগুয়েন ফু ট্রং, বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতিক হায়দার আকবর খান, গবেষক ও আভিধানিক ডক্টর গোলাম মুর্শিদ, জার্মানির ফুটবলার ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, উরুগুয়ের রাষ্ট্রপতি জোসে মুজিকা, আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জেমস আর্ল কার্টার জুনিয়ার, খ্রিস্টান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস প্রমুখ ব্যক্তিত্বকে।

জাতীয় ক্ষেত্রে যে সকল মহাপ্রাণের প্রয়াণে আমরা রিক্ত হয়েছি, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং, মার্কসবাদী তাত্ত্বিক সিতারাম ইয়েচুরি, শিল্পপতি রতন টাটা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভিএস অচ্চ্যুতানন্দ, প্রাক্তন বিদেশ মন্ত্রী কে নটোবর সিং, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ষোড়শ অধ্যক্ষ স্বামী স্মরণানন্দ মহারাজ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিবেক দেবরায়, ত্রিপুরার প্রাক্তন মন্ত্রী কেশব মজুমদার প্রমূখ।

আমরা স্মরণ করছি বিশিষ্ট শিল্পী ওস্তাদ রশিদ খান, পঙ্কজ উদাস, লীলা মজুমদার, অঞ্জনা ভৌমিক, প্রতুল মুখোপাধ্যায়, কৃষ্ণ কুমার কন্নথ, চিত্রপরিচালক শ্যাম বেনেগাল, অভিনেতা জয় ব্যানার্জি, যাত্রা শিল্পী নির্মল রায়, কীর্তন শিল্পী সীমা আচার্য চৌধুরী, ক্রীড়াবিদ ডেভিড জনসন অজয় কুমার দাস, ফুটবল প্রশিক্ষক গৌতম কন্ঠ, অংশুমান গায়কোয়াড় প্রমুখর স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বকে।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যে অভিভাবকদের সান্নিধ্য আমরা চিরতরে হারিয়েছি তারা হলেন খগেন্দ্রনাথ সিংহ, আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা, বিশ্বনাথ চৌধুরী, হাফেজ আলম সাইরানি, মহারানী কোঙার, মীর কাসেম মন্ডল, বিশ্বনাথ ঘোষ রায়, চিত্ত মুখার্জি, তপোতি সাহা, মকর টুডু, কৃপাসিন্ধু সাহা, দীনেশচন্দ্র ডাকুয়া, ক্ষিতি রঞ্জন মন্ডল, প্রমথেশ মুখার্জি, আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, মিনতি সেন প্রমূখ।

আমরা বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি শিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃৎ রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, শ্যামাপদ পাল, অধিক্রম সান্যাল, তপেশ্বর বসু, রজত কান্ত রায়, আশীষ বেরা, কবি জ্যোতির্ময় রায়। প্রাবন্ধিক প্রণব চট্টোপাধ্যায়, প্রাবন্ধিক আজিজুল হক, শিক্ষা ও সাহিত্য পত্রিকার প্রাক্তন যুগ্ম সম্পাদক বেদব্যাস মুখার্জি, সমিতির আঞ্চলিক কমিটির প্রাক্তন সম্পাদক রমেন ব্যানার্জি, আমাদের আঞ্চলিক শাখার (সোনারপুর - ২) শ্রদ্ধেয় প্রাক্তন সম্পাদক মৌলিনাথ চৌধুরী, ডায়মন্ড হারবার মহাকুমার প্রাক্তন সভাপতি অর্ধেন্দু দাস, কাকদ্বীপ মহকুমা সমিতির প্রাক্তন সম্পাদক হরিপদ সামন্ত, মথুরাপুর আঞ্চলিক শাখার প্রাক্তন সভাপতি নিখিল রঞ্জন গায়েন ও সদস্য মদনমোহন নাইয়া প্রমূখ্যকে।

আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করছি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাম্প্রতিক কালের বিমান ও সড়ক দুর্ঘটনা, রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের বলির শিকার হয়েছেন যেসব সহ নাগরিক। স্মরণ করছি বিতান অধিকারী,ঝন্টু আলি সহ অন্যান্য শহীদদের যারা উগ্রপন্থী হানায় মৃত্যুবরণ করেছেন। স্মরণ করছি পঙ্কজ দত্ত, সুবল সরেন, তামান্না খাতুন, আরজিকরের নিশংসভাবে হত্যার শিকার তিলোত্তমাকে; ঢাকায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় চিরঘুমের শায়িত মানুষদের; উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু কাশ্মীরে এবং অন্যত্র বিশেষ করে ইউক্রেন, প্যালেস্টাইন, ইরান ও বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন। স্মরণ করার সাথে সাথে এই সম্মেলন তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।

সম্পাদকীয় খসড়া প্রতিবেদন :

শ্রদ্ধেয় সভাপতি মন্ডলী ও সুপ্রিয় সহযোদ্ধা ও সংগ্রামী সাথি,
আজ শনিবার, ১৫ ই নভেম্বর ২০২৫। এক গভীর সংকট ও তৎজনিত উদ্বেগকে সঙ্গে করে আমরা নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির একাদশতম বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি। আমাদের এই উদ্বেগের মূলে রয়েছে আর্থসামাজিক বৈষম্যের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনমানের পরিকল্পিত ক্রমাবনতি এবং ধর্মীয় বিদ্বেষকে উসকে দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক বিস্তারের সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা। এই অপচেষ্টার পরিসর সমাজ থেকে রাজ্য স্তর হয়ে, জাতীয় স্তর অতিক্রম করে আজ আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিপজ্জনক চেহারা নিয়েছে।

১) আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি :

আদিম মনুষ্য সমাজের একটি পর্বে কৃষি পদ্ধতির আবিষ্কার এবং কৃষি উৎপাদনের সূচনা হয়। কৃষি উৎপাদনের হাত ধরে জন্ম নেয় ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণা। ব্যক্তিগত সম্পত্তির লাগামহীন পুঞ্জিকরনের কুমতলব থেকে জন্ম নেয় ধনতান্ত্রিক ধ্যানধারণা। এবং ধনতান্ত্রিক ধ্যান ধারণার এক পর্যায়ে এসে জন্ম নেয় আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদী চেতনা। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আসার পর ১৮ শতকে ইউরোপীয় নবজাগরণ ও তৎপ্রসূত শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে এই সাম্রাজ্যবাদী চেতনা এক ভয়ংকর আগ্রাসী চেহারা নেয়। ফলে প্রায় অর্ধশতাব্দীর মধ্যে পৃথিবী সম্মুখীন হয় দুটি ভয়ংকর মহাযুদ্ধের, যা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নামে পরিচিত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে আমেরিকা এবং তার দোসর ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর ধনতান্ত্রিক শাসকেরা শুরু করে অন্য ধারার শোষণ, শুরু করে এই শোষণকে আইনসঙ্গত করে তোলার জন্য অনৈতিক প্রয়াস। ফলে উদার অর্থনীতির ছদ্মবেশে দুনিয়াজুড়ে পুনরায় জেঁকে বসতে থাকে নয়া ‘সাম্রাজ্যবাদ’। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যা লাগামহীন চেহারা নেয়। নতুন নতুন কৌশলে (ভূমিকায় উল্লেখিত “সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা”) শুরু হয় শোষণের নতুন নতুন ধারা। তারই অবশ্যম্ভাবী পরিণতিই হল আজকের পৃথিবীর এই গভীর সংকট ও তৎজনিত উদ্বেগ।
এ সংকট এবং উদ্বেগের সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হল দেশে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার উপস্থিতি।

বৃহত্তর ইসরাইল গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নেতানিয়াহু সরকার প্যালেস্টাইনের উপরে যে আগ্রাসন ও নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে তার উদাহরণ মানব সভ্যতার ইতিহাসে অতি বিরল। আমেরিকার নেতৃত্বে ন্যাটোর সম্প্রসারণবাদী নীতির কারণে জন্ম নিয়েছে আরেক অমানবিক ও রাজনৈতিক সংকট, যা ইউক্রেন সংকট নামে পরিচিতি পেয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশ ছাড়া হয়েছেন, কয়েক হাজার মানুষের অপমৃত্যু ঘটেছে। বিগত কয়েক বছরে লিবিয়া, ইরাক সহ সাম্প্রতিক কালে সিরিয়া ও ইরানের উপর সাম্রাজ্যবাদী হামলা এবং গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া সুদানের গণহত্যা ইত্যাদি সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্তেরই বিষময় ফল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও দুনিয়া জুড়ে বামপন্থার পশ্চাদাপ্রসারণের কারণে সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগলির সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সমর্থক সরকারের উপর এই নৃশংস ও বর্বর হামলা এবং শোষণ অব্যাহত রাখতে পারছে। আমরা এই সম্মেলনের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির এই হীন চক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং এই শোষিত ও নিপীড়িত দেশগুলির সাধারণ জনগণের প্রতি আমাদের সংহতি ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।
তবে একথা আমরা ভুলিনি, যে পৃথিবীতে বামপন্থার বিকল্প আজও নেই। ইতিহাসের চাকা তাই আপাত পিছন দিকে এগোলেও তা চিরকালীন নয়। ইতিমধ্যেই আমরা তার লক্ষণ ফুটে উঠতে দেখছি দুনিয়া জুড়ে। শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, নেপাল, ইতালি, ফ্রান্স সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুবসমাজ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস দেখাচ্ছে। আমরা তাই আশাবাদী। অতি সম্প্রতি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল ও অভিবাসী অধ্যুষিত শহর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে বামপন্থী ঘরানার মেয়র নির্বাচন আমাদের আশাবাদী করে বৈকি। ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া জোহরান মামদানির জনকল্যাণকামী ও বামপন্থী কর্মসূচি সেদেশের মানুষকে সম্ভবত নতুন পথের সন্ধান দিতে পেরেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এ কথা আমরা ভুলিনি আমেরিকান ও ইউরোপীয় ধনতান্ত্রিক অর্থনীতি ও সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক মতাদর্শের দাপটকে উপেক্ষা করে চীন, উত্তর কোরিয়া, ভেনিজুয়েলা, কিউবা, চিলি ইত্যাদি দেশের জনগণ নিজেদেরকে সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার গর্বিত সংরক্ষক ও প্রসারক হিসাবে তুলে ধরছে। আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোর ৩৭ বছর বয়সি ক্যরিশম্যাটিক সামরিক শাসক ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে (যিনি সে দেশের জনগণের কাছে ইতিমধ্যেই কমিউনিস্ট বিপ্লবী টমাস সাঙ্কারার উত্তরসূরী হিসেবে এবং “আফ্রিকার চে গেভারা” নামে পরিচিতি পেয়েছেন) দক্ষতার সাথে একজন প্যান-আফ্রিকান নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন, যিনি তাঁর নিজের দেশ সহ সমগ্র আফ্রিকান জাতিকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ ও নব্য উপনিবেশিকতাবাদের কবল থেকে মুক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সুতরাং আমরা হতাশ নই, আমরা আশাবাদী।

২) জাতীয় পরিস্থিতি :

কিন্তু দুঃখের হলেও সত্যি, এই আশাবাদ সত্বেও দেশের জাতীয় স্তরে আমরা গভীর উদ্যোগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি বহুত্ববাদী ও বহুজাতিক রাষ্ট্রের গর্বিত অবস্থান থেকে আমরা ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছি। হিন্দুত্ববাদী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রদর্শন আমাদের মানবিক মূল্যবোধগুলোর অবক্ষয় ডেকে আনছে। আরএসএস ও তার রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির ‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান’ ও ‘হিন্দু রাষ্ট্রে’র স্লোগান ভারতীয় সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোরকে চ্যালেঞ্জ করছে। ফলে জাতীয় সংহতি সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। ভারতের জাতীয় ঐক্য ও সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একে ভঙ্গুর ও নড়বড়ে করে দেওয়ার কোন সম্ভাবনাকেই নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সোনারপুর ২ আঞ্চলিক কমিটি সমর্থন করে না। কারণ দেশের ঐক্য ও সংহতি নষ্ট হলেই সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর কাছে নয়া সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য কার্যকরী করার সুযোগ তৈরি হয়।

আমাদের দ্বিতীয় উদ্বেগের বিষয় হলো জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০। এই শিক্ষানীতিতে শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্গঠন এবং পুঁজিবাদের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার কৌশলী চেষ্টা রয়েছে। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে বেসরকারি হাতে দিয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পরবর্তী প্রজন্মকে অশিক্ষার অন্ধকারে রাখার চেষ্টা চলছে। তার পরিবর্তে তাদেরকে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার নির্ভর জীবন ব্যবস্থার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে ভাগ্য বদলের নিদান দেওয়া হচ্ছে। যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানমনস্কতা, মানবতাবোধ সহ আধুনিক মূল্যবোধগুলোকে সরিয়ে অতীত ঐতিহ্যের নাম করে অচল অনুশাসনকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অশিক্ষার অন্ধকারে থাকা জনগোষ্ঠী নিজের সাংবিধানিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। ফলে সহজেই এবং স্বল্প মূল্যে কর্পোরেট সংস্থাগুলো এইসব আধুনিক শিক্ষা বঞ্চিত মানুষকে অতি সস্তায় তাদের মেধা ও শ্রমকে ব্যবহার করে নিজেদের পুঁজির পাহাড় গড়ে তুলতে পারবে। মূলত এই লক্ষ্য নিয়েই কর্পোরেট ও ধর্ম ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছে এক সুচারু মেলবন্ধন। তাই আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, চলছে মন্দির মসজিদ গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা। আর তাকে উসকে দিচ্ছে কর্পোরেটদের তৈরি ইলেকট্রনিক মিডিয়া।

একের পর এক লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানকে স্বল্প মূল্যে কর্পোরেট সংস্থাগুলোর হাতে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। এই লাভজনক সংস্থাগুলোর লভ্যাংশ আসলে জনগণের সম্পদ। শিক্ষা স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই লভ্যাংশ জনগণের কাছে ফিরে আনা এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানোই ছিল এর প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল লক্ষ্য। অথচ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এই লভ্যাংশ জনগণের পরিবর্তে কর্পোরেটদের পকেটে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে, স্বল্পমূল্যে সেগুলোকে তাদের হাতে বিক্রি করেছে দেওয়ার মাধ্যমে।

অন্যদিকে, শিল্প প্রতিষ্ঠার নাম করে আদিবাসী এবং সাধারণ মানুষের জমি প্রায় বিনামূল্যে গুটিকতক কর্পোরেট সংস্থার হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে, কোন সুরক্ষা কবজ ছাড়াই। নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি সোনারপুর ২ আঞ্চলিক শাখা সরকার ও কর্পোরেট সংস্থার এই বোঝাপড়াকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বিপদজনক ঝোঁক বলে মনে করছে।

৩) রাজ্যের পরিস্থিতি :

নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সোনারপুর ২ আঞ্চলিক কমিটি উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে রাজ্য স্তরের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ব্যবস্থার বিপদজনক বাঁককেও। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য এই বিপদজনক পথ অবলম্বন করছে রাজ্য সরকার। এই প্রবণতা দেশের ঐক্য ও সংহতির অপূরণীয় ক্ষতি করবে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।

আমরা লক্ষ্য করছি, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে গৃহীত শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার জন্য কৌশলী চক্রান্ত চলছে। শিক্ষক নিয়োগে সীমাহীন দুর্নীতি শুধুমাত্র আর্থিক দুর্নীতি নয়, এই দুর্নীতির অন্যতম লক্ষ্য সরকারি অনুকূল্যে চলা শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদন্ড ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার জন্য ঠেলে দেওয়া। এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষিত ও অর্থবান মানুষরা যুগ যুগ ধরে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বংশানুক্রমিকভাবে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখা। কোন নিম্নবিত্ত এবং শিক্ষা বঞ্চিত পরিবারের উত্তরসূরী যাতে তার অর্থনৈতিক শ্রেণীরগত অবস্থান বদলাতে সক্ষম না হয়। শ্রমিকের সন্তান স্বল্প মূল্যে শ্রম বিক্রি করেই কোনক্রমে টিকে থাকবে —এটাই তাদের লক্ষ্য। আমরা এমন পঙ্গু সমাজ চাই না। কারণ, কোন সমাজের বৃহত্তর অংশ আর্থিক এবং শিক্ষাগত পশ্চাদপদতা নিয়ে বাঁচলে, সেদেশ কখনো বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। পারেনা নয়া সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হতে।

তাই আমরা চাই, রাজ্য সরকার দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন চালাতে বাধ্য হোক। না পারলে পদত্যাগ করুক। আইনশৃঙ্খলার ক্রমাবনতি, আর্থিক দুর্নীতি, ধর্মীয় মেরিকরণ বাদ দিয়ে সকলের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের উপর জোর দিক। আমরা কোন রাজনৈতিক সংগঠন নই, শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের প্রতিনিধিত্ব করি আমরা। রাজনৈতিক রঙ নির্বিশেষে ভালোকে ভালো এবং খারাপকে খারাপ বলার অধিকার আমাদের আছে। প্রতিবাদ সে কারণেই।

৪) সাংগঠনিক অবস্থা :

আপনারা সকলেই অবগত আছেন, এই প্রতিবাদ আমরা সুচারুভাবে তখনই করতে পারব, যখন আমরা বিশেষ করে শিক্ষক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে সাহসিকতার সঙ্গে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারব। আর এটা করা তখনই সম্ভব যখন আমাদের সাংগঠনিক শক্তি সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এক্ষেত্রে আপনাদের শুধু সমর্থন নয়, সাহস নিয়ে কার্যক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরী।

প্রশ্ন হতে পারে কেন আমরা এ কাজ করব? আমরা চাকরি করি, মাইনে পাই। আরও অনেকের চেয়ে নিশ্চয়ই কিছুটি নিরাপদ জীবন যাপন করি। কিন্তু আমার পরবর্তী প্রজন্ম, যারা আগামী দিনে সংসার রাজনৈতিক জীবনে হাল ধরতে আসবে, তাদের কথা কি আমরা ভাববো না? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগ যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমার আপনার সন্তান কীভাবে বাঁচবে? বামফ্রন্ট সরকারের কল্যাণে এবং যে নীতি অনুসরণের কারণে আমরা আজকের জীবন ধারাকে নিশ্চিত করেতে পারছি তা কি আমাদের সন্তানেরা পাবে? আমরা রুখে না দাঁড়ালে তাদের জন্য এ পথ বন্ধ হতে বাধ্য।

আশার কথা হল, নানা রকমের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি তার প্রতিবাদী চরিত্র এবং আন্দোলন গড়ে তোলার ইচ্ছা শক্তিকে ধরে রেখেছে। সমিতির কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহাকুমা কমিটির নির্ধারিত কর্মসূচি মোটামুটি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে। অনেক দুর্বলতা সত্বেও তার ধারাবাহিকতা বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে আপনাদের মত নিষ্ঠাবান আদর্শ পরায়ন সাথি ও সমার্থক আছেন বলেই। আমাদের সোনারপুর ২ আঞ্চলিক শাখার পক্ষ থেকে অনেক সাথি সংগঠক কম বেশি প্রত্যেক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে থাকেন। বলতে দ্বিধা নেই, তবে তা আশা ব্যঞ্জন নয়। এই হতাশাজনক অবস্থান থেকে আমাদের সংগঠনকে তুলে আনতে হবে। একাজ সম্পাদক এবং সভাপতিসহ দু একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। সংগঠনের প্রতিটি সমার্থক নিজ দায়িত্বে এগিয়ে আসতে হবে এই সংগঠনের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্যকে অন্তরের অন্তস্থলে জায়গা দিয়ে। কারণ, এই সংগঠনই একমাত্র সংগঠন যারা দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পান সমাজ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হল শিক্ষা ও শিক্ষা সহায়ক শিক্ষক সমাজ।

সারা বছর যে সমস্ত কর্মসূচি উচ্চতর সংগঠনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পথসভা, প্রতিবাদ সভা, মিছিল সেমিনার আয়োজন সহ বিভিন্ন আন্দোলন ইত্যাদি। এছাড়া শিক্ষক ছাত্র অভিভাবক দের মধ্যে সমন্বয়কারী বিভিন্ন কর্মসচিও থাকে সমিতির উদ্যোগে। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, মক টেস্টের আয়োজন, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য টেস্ট পেপার প্রকাশ ও তার বিতরণ, শিক্ষা ও সাহিত্য নামক পত্রিকার প্রকাশ ও বিতরণ ইত্যাদি শিক্ষক সমিতি নিয়মিতভাবে করে যাচ্ছে। সোনারপুর ২ আঞ্চলিক শাখার পক্ষ থেকে এইসব প্রোগ্রামে সক্রিয় সহযোগিতার ও অংশগ্রহণের চেষ্টা হয়ে থাকে।

কিন্তু দুঃখের হলেও সত্যি, এই কাজ মোটেই আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতাই এর জন্য দায়ী। সমিতির খাতায় নাম লিখিয়ে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করছি। কিন্তু কোন কার্যক্রম বা কর্মসূচি কার্যকরী করতে গেলে অর্থ যেমন লাগে, তেমনি লাগে জনমানুষের সশরীরে অংশগ্রহণ। লাগে পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা। আমাদের অভিজ্ঞতা, এক্ষেত্রে আমরা ভয়ংকরভাবে পিছিয়ে। আসুন, আমরা সকলেই সহযোগিতার হাত বাড়ি দিয়ে, ভয় ও উৎকণ্ঠা কাটিয়ে দিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠি। ভয় পাওয়া নয়, সাহসের ভর করেই কেবল সফল হওয়া যায়, নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব —এই সত্যকে অন্তরে জায়গা করে দেই।

সুতরাং আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের কিছু দাবিদাওয়া এই প্রতিপাদনের মাধ্যমে উপস্থাপন করার শপথ নেই। এবং তাকে কার্যকরী করে তোলার জন্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

৫) কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি:

  1. শিক্ষা খাতে কেন্দ্রীয় বাজেটের ১০% এবং জাতীয় আয়ের 6% ব্যয় করতে হবে।
  2. শিক্ষার দাবি জাতীয় দাবি, তা সব নাগরিক নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।
  3. শিক্ষাকে সম্পূর্ণ রাজ্যের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  4. শিক্ষার গৈরিকীকরণ ও বেসরকারিকরণ বন্ধ করতে হবে।
  5. শিক্ষার পাঠক্রমকে আধুনিক যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞান মানসিকতার প্রসার ঘটাতে নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে।
  6. শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে তোলা এবং সেক্ষেত্রে দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস এবং তা পরিচালনাকে বিনামূল্যে প্রধান করতে হবে।
  7. জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিল করতে হবে এবং পাঠ্যক্রমকে অত্যাধুনিক বিষয় যুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীর মধ্যে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার মুক্ত যুক্তিবাদী চিন্তা চেতনার প্রসার সহায়ক বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  8. ভারতীয় ইতিহাসের নামে ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করতে হবে এবং বিজ্ঞানের নামে অপবিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের পরিত্যক্ত বিষয়কে পাঠক্রম থেকে বাতিল করতে হবে।
  9. নয়া পেনশন ব্যবস্থা বাতিল করে শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীদের অবসরকালীন জীবনের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করতে হবে।

৬) রাজ্য সরকারের কাছে দাবি :

  1. বিদ্যালয়ের স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক প্রশাসনের আওতায় আনতে হবে।
  2. মধ্যাহ্নকালীন আহারের ব্যবস্থা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ এবং স্কুলের অন্যান্য স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য কম্পোজিট গ্রান্ড বাড়াতে হবে এবং বছরের শুরুতেই তা প্রদান করতে হবে।
  3. বিদ্যালয়গুলিতে চরম শিক্ষকসংকট মোকাবেলা করতে স্কুল সার্ভিস কমিশন ও মাদ্রাসার সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ করতে হবে।
  4. ২০১৬ সালের যোগ্য ও বৈধ শিক্ষকদের পুনর্বহাল করতে হবে এবং নিরবিচ্ছিন্ন চাকরির সুবিধা প্রদান করতে হবে।
  5. বকেয়া ৩৫ শতাংশ ডিএ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে।
  6. কমিউটেড পেনশনের ক্ষেত্রে ১২৮ মাস পর ফুল পেনশন চালু করতে হবে।
  7. এসএসসির মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকদের পিভিআর ও মেডিকেল টেস্টের নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
  8. কনফার্মেশন অফ সার্ভিস নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।
  9. প্রশাসনিক বদলির নাম করে প্রতিহিংসামূলক বদলি বন্ধ করতে হবে। এবং স্বচ্ছভাবে এবং যৌক্তিক নিয়মে নিয়োগ ও স্বেচ্ছা বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
  10. পার্শ্বশিক্ষক, আইসিটি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের চাকরিকে স্থায়ী এবং বেতনক্রমকে সাধারণ শিক্ষকদের সমতল করতে হবে।
  11. সমস্ত বিদ্যালয়গুলিতে কম্পিউটার প্রশিক্ষিত করণিক নিয়োগ করতে হবে এবং পুরানো করণিকদের এ বিষয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
  12. মিড ডে মিলের রাধুনীদের সম্মানজনক মজুরি দিতে হবে।
  13. সার্ভিস বুক এবং জিপিএফ/পিএফ একাউন্ট ডিজিটালাইজ করে অবসরকালীন সময়ে যাতে সহজেই ফাইনাল পেমেন্ট পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।
  14. মেডিকেল লিভ বা স্বাস্থ্যকালীন ছুটি প্রতি মাসে ১৫ টি নিশ্চিত করতে হবে এবং ৩৬৫ দিনের উর্ধ্বসীমা বাতিল করতে হবে। সেইসঙ্গে শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীদের জন্য ই এল চালু করতে হবে।
  15. প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের FORM -16 EMAIL এর মাধ্যমে প্রদান করতে হবে।
  16. রোপা ২০১৯ এর অপশন ফর্ম কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সহ দ্রুত বিদ্যালয়ে ফেরত পাঠাতে হবে।
  17. পিজিটি এবং টিজিটি টিচারদের মধ্যে বেতন ক্রমের বৈষম্য দূর করতে হবে।
  18. সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীদের রাজ্য সরকারি স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনতে হবে।
  19. ছাত্র-ছাত্রীদের ইউনিফর্ম নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিতে হবে এবং স্বাস্থ্যসম্মত ইউনিফর্ম দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
  20. কর্ম-ভিত্তিক শিক্ষার শ্রেণীভিত্তিক পাঠক্রম তৈরি করতে হবে এবং পাঠ্য বই প্রদান করতে হবে।
  21. সপ্তম শ্রেণী থেকে বিদ্যালয় স্তরে পৃথক এবং বিস্তৃতভাবে ভৌত বিজ্ঞান ও জীবন বিজ্ঞান পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
  22. ছাত্র-ছাত্রী না থাকার অজুহাতে সরকারি বিদ্যালয় তুলে দেয়ার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র-ছাত্রীদের ফিরে আসার উপযুক্ত করে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে।
  23. তামিলনাড়ু সরকারের মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর থেকেই এ আই এবং মেশিন লার্নিং শিক্ষার প্রাথমিক পাঠ চালু করতে হবে।

সংগ্রামী অভিনন্দন সহ—

সুতপা চক্রবর্তী,
সভাপতি
নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি
সোনারপুর ২ আঞ্চলিক শাখা

কমল পাত্র,
কোষাধক্ষ
নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি
সোনারপুর ২ আঞ্চলিক শাখা

আলী হোসেন মন্ডল,
সম্পাদক,
নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি
সোনারপুর ২ আঞ্চলিক শাখা

নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি জিন্দাবাদ, ছাত্র-শিক্ষক অভিভাবক ঐক্য জিন্দাবাদ।

আয়-ব্যয়ের হিসাব


আয় ব্যয়ের

হিসাব

২০২২-২০২৩


ক্রমিক বিবরণ আয় বিবরণ ব্যয়
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা - - -
সদস্য রিবেট - - -
টেস্ট পেপার - - -
অনুদান সংগ্রহ  - - -
অন্যান্য - - -

- - -
মোট : - - -
প্রাক্তন সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মৌলিনাথ চৌধুরীর অকাল প্রয়ানের কারণে জানা যায়নি। 

আয় ব্যয়ের হিসাব ২০২৩-২০২৪
ক্রমিক বিবরণ আয় বিবরণ ব্যয়
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ৩০০০ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ৯৪৫৫
সদস্য রিবেট ৫৮০০ -
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০০০ প্রচার ও অন্যান্য ২০০০
অনুদান সংগ্রহ - - -
অন্যান্য - - -
- - - -
মোট : ১০৮০০ - ১১৪৫৫
ঘাটতি : ৬৫৫/- টাকা

আয় ব্যয়ের

হিসাব

২০২৪-২০২৫


ক্রমিক বিবরণ আয় বিবরণ ব্যয়
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ৪০০০ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ৭৮৪৫
সদস্য রিবেট ৪৫০০ গতবছরের ঋণ শোধ ৬৫৫
টেস্ট পেপার ৭২৫ টেস্ট পেপার ক্রয় ৭২৫
অনুদান সংগ্রহ STFI ১১০০ জেলা তহবিল ১১০০
অনুদান সংগ্রহ উত্তরবঙ্গ ৯০৫৫ রাজ্য তহবিল ৯০৫৫
অন্যান্য - - -
মোট : ১৯৩৮০ - ১৯৩৮০

প্রতিবেদনটি দেখুন এবং ডাউনলোড করুন