নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সোনারপুর-২ আঞ্চলিক শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন - ২০২৫
![]() |
| নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সোনারপুর ২ আঞ্চলিক শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন - ২০২৫ |
সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হলো, তেঁতুলবেড়িয়া অনুকূলচন্দ্র হাইস্কুলের সাভাগৃহে। সমিতির পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা করেন সোনারপুর - ২ আঞ্চলিক শাখার সহ-সভাপতি সাথি ননীগোপাল সেন মহাশয়। সভাপতিমন্ডলীর আসন গ্রহণ করেন ননীগোপাল সেন, মধুমিতা চক্রবর্তী, সুমিত রায়। মিনিটস কমিটির দায়িত্ব পালন করেন সঞ্চারী পুরকাইত এবং কমল পাত্র।
নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সোনারপুর ২ আঞ্চলিক কমিটির প্রাক্তন দু’জন সম্পাদককে (শ্রদ্ধেয় মানস কোলে ও শ্রদ্ধেয় মৌলিনাথ চৌধুরী) শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্মেলনের নগর ও মঞ্চের নামকরণ করা হয়।
শ্রদ্ধেয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুমিত রায়ের সুমধুর ও সাবলীল শোক বিহ্বল উচ্চারণে শোক প্রস্তাব পাঠ, এবং পরে এক মিনিট নীরবতা পালন ও শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ পাইনের উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে সম্মেলনের শুভ সূচনা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সভাপতি মন্ডলীর সদস্যা শিক্ষিকা মধুমিতা চক্রবর্তী।
এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির বারুইপুর মহকুমা সম্পাদক সাথি শংকর দাশগুপ্ত। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য অপূর্ব মন্ডল ও সঞ্চারী পুরকাইত। অপূর্ব মন্ডল তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে তুলে আনেন নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং শিক্ষা আন্দোলনে এই সমিতির ভূমিকার কথা। তিনি বলেন, আজকের শিক্ষক সমাজের যে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, তার মূলে ছিল আমাদের এই সংগঠনের ধারাবাহিক আন্দোলন এবং বামফ্রন্ট সরকারের শিক্ষা বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব। সেইসঙ্গে বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার যে চক্রান্ত করছে তার কথাও। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়ে তিনি তাঁর কথা শেষ করেন।
সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পাঠ করেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক (সম্পাদক মৌলিনাথ চৌধুরীর অকাল প্রয়াণের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত) আলী হোসেন মন্ডল। আন্তর্জাতিক, জাতীয় এবং রাজ্যস্তরের সামগ্রিক পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন তাঁর এই প্রতিবেদনে। শিক্ষা আন্দোলন কেন প্রয়োজন, কোথায় বাঁধা, কারা কীভাবে কী উদ্দেশ্যে এই বাধা তৈরি করছেন, তার ব্যাখ্যা করেন লিখিত ও মৌখিক আলোচনায়। এই বাধা উত্তরণের পথের সন্ধান করেছেন এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায়।
👉 সম্পাদকীয় প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে
সম্পাদকীয় প্রতিবেদনের উপর আলোকপাত করেন, সাথী শিক্ষক (বড়াল স্বামীজি বিদ্যাপীঠ হাই স্কুল) সুদীপ্ত ভাস্কর দত্ত, বলরামপুর মন্মথরায় বিদ্যামন্দিরের শিক্ষিকা সাথি সঞ্চারী পুরকাইত, শিক্ষা কর্মী (বোড়াল হাই স্কুল) সৌরভ ভট্টাচার্য প্রমূখ। সুদীপ্ত ভাস্কর দত্ত অভিযোগ করেন, পঠন পাঠনের বাইরে যেভাবে শিক্ষকদের সারা বছর ব্যস্ত রাখা হচ্ছে, তাতে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে। সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টিতেও আলোকপাত করেন তিনি।
বিরতি পর্বে মেলোডিকা বাজিয়ে শোনালেন “আমরা করবো জয়” সংগীতের সংগ্রামী সুর। শোনালেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং সমিতির সক্রিয় সদস্য সুরজিৎ মজুমদার।
সম্মানীয় মহাকুমা সম্পাদক সাথি শংকর দাশগুপ্তের মূল্যবান এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উঠে আসে শিক্ষা আন্দোলনের বর্তমান সংকট এবং সমিতির পক্ষ থেকে তা উত্তরণের চেষ্টার কথা। সম্পাদকীয় প্রতিবেদনের উপর আলোচনায় উঠে আসা কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি এই সম্মেলন ও আলোচনাকে সমৃদ্ধ করে তোলেন। এসআইআর-এ শিক্ষকদের বিএলও হিসাবে নিয়োগ এবং তাদের সমস্যা সংক্রান্ত প্রশ্নের বিষয়েও আলোকপাত করেন।
সম্পাদকীয় প্রতিবেদনের উপর আলোচনায় উঠে আসা বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিষয়ের উপর জবাবী বক্তব্যে সম্পাদক তুলে ধরেন এই সম্মেলনের কিছু দুর্বলতার কথা এবং তার অনিবার্য কারণ। তিনি বলেন, ছুটির দিন থাকা এবং বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্যের বিএলও হিসেবে নিযুক্ত থাকার কারণে তাদের অনুপস্থিতি, এই দুর্বলতার অন্যতম দুটি কারণ। এছাড়া সময়কালের একেবারে শেষ প্রান্তে হঠাৎই সম্পাদক মৌলিনাথ চৌধুরীর অকাল প্রয়াণ ও তৎনিত শূন্যতা এর অন্যতম কারণ।
তবে আশার কথা, বেশকিছু নতুন মুখ উঠে এসেছে এই সম্মেলনে। তিনি সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা কেউ নেতা নই। আমরা সকলেই সহকর্মী এবং সহযোদ্ধা। সকলের সমবেত চেষ্টাই কেবলমাত্র এই সংগঠন এবং শিক্ষা আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তুলতে পারে। এই কাজে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে, শিক্ষকের নিজের প্রয়োজনেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সেই প্রয়োজন কী এবং কেন তা মেটাতে শিক্ষককেই এগিয়ে আসতে হবে। কেন সমাজের অন্য অংশ আপনার সঙ্গে থাকতে চাইছে না, তার অভ্যন্তরে থাকা গভীর ষড়যন্ত্রের কথা। এই উপলব্ধির জায়গা শুধু নিজের কাছে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। ছড়িয়ে দিতে হবে সমগ্র শিক্ষক সমাজের মধ্যে। তবেই এই দুরবস্থা কাটবে।
সবশেষে, সভাপতি মন্ডলীর পক্ষ থেকে সাথি মধুমিতা চক্রবর্তী অতি সংক্ষিপ্ত কথা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
--------xx-------
